• ২০২৩ ফেব্রুয়ারী ০১, বুধবার, ১৪২৯ মাঘ ১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ৪:২১ অপরাহ্ন
  • বেটা ভার্সন
Logo
  • ২০২৩ ফেব্রুয়ারী ০১, বুধবার, ১৪২৯ মাঘ ১৯

মিরপুর-উত্তরার দূরত্ব কমাল মেট্রোরেলের সংযোগ সড়ক

  • প্রকাশিত ১০:৪৭ পূর্বাহ্ন মঙ্গলবার, জানুয়ারী ২৪, ২০২৩
মিরপুর-উত্তরার দূরত্ব কমাল মেট্রোরেলের সংযোগ সড়ক
সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক

মেট্রোরেলের যুগে প্রবেশ করেছে বাংলাদেশ। রাজধানীর উত্তরা উত্তর (দিয়াবাড়ি) থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত এমআরটি লাইন-৬ এর প্রথম অংশ চালু হয়েছে। এ বছরের জুনে এটি মতিঝিল পর্যন্ত চালু হওয়ার কথা।

মেট্রোরেলের সুবাদে তৈরি হয়েছে নতুন এক সড়ক। যা মিরপুর ও উত্তরার দূরত্ব কমিয়েছে প্রায় অর্ধেক। আগে যেখানে মিরপুর থেকে উত্তরার হাউজবিল্ডিং বাসস্ট্যান্ড যেতে সময় লাগত এক থেকে দেড় ঘণ্টা, এখন সেখানে লাগছে ৩০ থেকে সর্বোচ্চ ৪০ মিনিট।

নতুন রাস্তাটি মিরপুর-১২ নম্বর থেকে মিরপুর সেনানিবাস ও ডিওএইচএসের মধ্য দিয়ে উত্তরা-১৮ নম্বর সেক্টর ও কে-ব্লকের পাশ দিয়ে সোজা চলে গেছে মেট্রোরেলের দিয়াবাড়ি গোলচত্বর পর্যন্ত। সেখান থেকে উত্তরার সোনারগাঁ জনপথ সড়ক হয়ে সোজা যাওয়া যায় হাউজবিল্ডিং বাসস্ট্যান্ড।

মেট্রোরেলের উত্তরা দক্ষিণ স্টেশন থেকে চার লেন বিশিষ্ট এ সড়কের সৌন্দর্যও মনোমুগ্ধকর। মিরপুর ডিওএইচএস থেকে ঝিলের ভেতর দিয়ে এক লেনের সংযোগ সড়কটি তৈরি হয়েছে উত্তরা দক্ষিণ স্টেশন পর্যন্ত।

সম্প্রতি রাস্তাটি ঘুরে দেখা গেছে, চার লেনের সড়ক হলেও মেট্রোরেলের স্টেশন এলাকাগুলোতে আরও দুটি আলাদা লেন তৈরি করা হয়েছে যাত্রীদের সুবিধার্থে। মেট্রোস্টেশনগুলোর রাস্তার দুপাশে লাগানো হয়েছে বাহারি রঙের ফুলের গাছ। সড়কের দুই পাশ আরও গাছ লাগানোর জন্য প্রস্তুত হচ্ছে।

এ সড়কের বিভিন্ন স্থানে রয়েছে দিকনির্দেশনা। প্রতিটি মোড় ও গোলচত্বর যেন সাজানো ফুলের বাগান। সড়কের কাজ পুরোপুরি শেষ হলেও কিছু কিছু জায়গায় এখনও সড়কের বাইরের বেষ্টনীর কাজ চলছে।

এ সড়কের শেষ প্রান্ত মেট্রোরেল দিয়াবাড়ি গোলচত্বর এত বড় যে ক্যামেরার এক ফ্রেমে যেন আটে না। গোলচত্বরের মধ্য দিয়ে নেমে গেছে মেট্রোরেলের তিনটি ভায়াডাক্ট লাইন। সোনারগাঁও জনপথ সড়কটি হাউজবিল্ডিং বাসস্ট্যান্ড থেকে গোলচত্বরে এসে মিলেছে। আবার গোলচত্বর হয়ে সড়কটি দিয়াবাড়ি পাসপোর্ট অফিস হয়ে মিরপুর সড়কে গিয়ে মিলেছে। যেখান থেকে অনায়াসেই গাবতলী, আশুলিয়া ও কামারপাড়া যাওয়া যায়।

জানা গেছে, মিরপুর ডিওএইচএস থেকে দিয়াবাড়ি গোলচত্বর হয়ে হাউজবিল্ডিং বাসস্ট্যান্ডের দূরত্ব ৭ দশমিক ৮ কিলোমিটার। এ পথের প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার সড়ক তৈরি করেছে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ- ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)।

সড়কটির সুবিধা পাবেন মিরপুর ও উত্তরাবাসী। কারণ, মিরপুরের পল্লবী মেট্রো রেলস্টেশন থেকে অনায়াসে উত্তরা উত্তর স্টেশনে মেট্রোরেলের মাধ্যমে যাতায়াত করা যায়। আবার মেট্রোরেলে যেতে না চাইলে সংযোগ সড়ক দিয়ে অনায়াসে ২০-২৫ মিনিটের মধ্যে গন্তব্যে পৌঁছানো যায়।

তবে, এ পথে এখনও কোনো গণপরিবহন চালু হয়নি। সাইকেল, মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়ি, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, লেগুনা ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল করে। 

লেগুনা ও অটোরিকশার চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দিয়াবাড়ি গোলচত্বর থেকে মিরপুর ডিওএইচএস পর্যন্ত ভাড়া জনপ্রতি ৪০ টাকা এবং মেট্রোরেলের উত্তরা উত্তর স্টেশন থেকে ভাড়া জনপ্রতি ৩০ টাকা।

অন্যদিকে, মিরপুর ডিওএইচএস থেকে কালশি, ইসিবি চত্বর, খিলক্ষেত ও বিমানবন্দর হয়ে হাউজবিল্ডিং বাসস্ট্যান্ডের দূরত্ব সাড়ে ১৪ কিলোমিটার। যা নতুন সড়কের তুলনায় দ্বিগুণ। এ পথে জ্যাম না থাকলে হাউজবিল্ডিং যেতে ৪০ মিনিটের মতো সময় লাগে। তবে, জ্যাম থাকলে এক থেকে দেড় ঘণ্টা বা তার চেয়েও বেশি সময় লাগে।

মিরপুর পল্লবীর বাসিন্দা নাজিম উদ্দিন বলেন, মাসে দুই থেকে তিনবার কাজে উত্তরার দিকে যাওয়া হয়। আগে উত্তরায় বাসে যেতে অনেক সময় লাগত। দুই ঘণ্টাও লেগেছে। গত মাস থেকে নতুন সড়ক দিয়ে যাচ্ছি। এ সড়কে ৩০ থেকে ৪০ মিনিট সময় লাগে।

‘আগামী ২৫ জানুয়ারি থেকে মেট্রোরেলের পল্লবী স্টেশন চালু হবে। তখন মেট্রোরেলেই যেতে পারব। শুরুতে কয়েক বছর কষ্ট হলেও মেট্রোরেলের কল্যাণে সহজ দুটি রাস্তা পেয়েছি।’

পিকআপচালক মামুনুর রহমান বলেন, আমাদের বিভিন্ন মালামাল নিয়ে নিয়মিত ঢাকার বিভিন্ন প্রান্তে যেতে হয়। মিরপুর থেকে উত্তরার দিকে বিমানবন্দরের সামনে দিয়ে কখনও ৩০-৪০ মিনিটে গিয়েছি, আবার দেড়-দুই ঘণ্টাও লেগেছে। এখন নতুন সড়ক দিয়ে ৩০-৪০ মিনিটেই যেতে পারি। এ পথের দূরত্বও কমেছে। আবার ভারি যানবাহন কম চলায় সড়কটি নিরাপদও।

নতুন সড়ক সম্পর্কে জানতে চাইলে ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ এন ছিদ্দিক বলেন, সড়কটি সিটি কর্পোরেশনের করার কথা ছিল। কিন্তু আমরা জনগণের কথা চিন্তা করেই নির্মাণ করেছি। এ রাস্তা রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ইতোমধ্যে সিটি কর্পোরেশনকে চিঠি দিয়েছি। তাদেরকে চিঠিতে বলেছি, শুধুমাত্র স্টেশন এলাকা বাদ দিয়ে এ সড়কের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য। এখন থেকে তারা যেন সড়কটির রক্ষণাবেক্ষণ করে।


সর্বশেষ