• ২০২২ নভেম্বর ২৬, শনিবার, ১৪২৯ অগ্রহায়ণ ১২
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:৫০ অপরাহ্ন
  • বেটা ভার্সন
Logo
  • ২০২২ নভেম্বর ২৬, শনিবার, ১৪২৯ অগ্রহায়ণ ১২

নির্বাচনের নামে আর খেলা নয়: ফরিদপুরের জনসভায় ফখরুল

  • প্রকাশিত ১১:১৪ অপরাহ্ন শনিবার, নভেম্বর ১২, ২০২২
নির্বাচনের নামে আর খেলা নয়: ফরিদপুরের জনসভায় ফখরুল
সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেছেন, নির্বাচনের নামে আওয়ামী লীগকে আর কোনও খেলা খেলতে দেয়া হবে না।

তিনি বলেন, ‘আপনারা গত দুইবার নির্বাচনের নামে খেলা খেলে জনগণকে ধোঁকা দিয়ে, মিথ্যা কথা বলে ক্ষমতায় গেছেন। কিন্তু এবার আমরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছি। এবার দেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকার না হলে নির্বাচন হবে না।’

শনিবার ফরিদপুর জেলা শহর থেকে প্রায় ছয় কিলোমিটার দূরে কমরপুর আব্দুল আজিজ ইনস্টিটিউশন প্রাঙ্গণে এক বিশাল সমাবেশে ফখরুল এসব কথা বলেন।

দলের পূর্বঘোষিত বিভাগীয় সমাবেশের অংশ হিসেবে ফরিদপুর জেলা বিএনপি এ কর্মসূচির আয়োজন করে।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ফরিদপুরের এই জনসভায় ফরিদপুর, রাজবাড়ী, শরীয়তপুর, মাদারীপুর ও গোপালগঞ্জ-এই পাঁচটি জেলা থেকে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থকরা  সভায় অংশ শুক্রবার সকাল থেকে শুরু হওয়া ৩৮ ঘণ্টার বাস ধর্মঘটের বিভিন্ন বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করতে হয় তাদের।

শুক্রবার রাতে ক্ষমতাসীন দলের লোকজন ও পুলিশের বাধা এবং বাস ধর্মঘটের কারণে সৃষ্ট ঝামেলার আশঙ্কায় পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোর বিএনপি নেতাকর্মীরা আগাম জড়ো হওয়ায় সমাবেশস্থল প্রায় পূর্ণ হয়ে যায়।

শুক্রবার সকাল থেকে ফরিদপুরের সঙ্গে সারাদেশের মধ্যে বাস চলাচল বন্ধ থাকলেও বিভিন্ন এলাকা থেকে ট্রেন, লঞ্চ, নৌকা, ট্রাক, হিউম্যান হলার, অটোরিকশা, তিন চাকার ছোট যানবাহন, মোটরবাইক এবং মাইক্রো বাসে করে বিএনপি নেতাকর্মীরা জেলা শহরে আসেন।

এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, বিরোধী দলের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সকাল ১০টা থেকে ইন্টারনেট পরিষেবা ব্যাহত হয়েছে।

যে কোনও ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সমাবেশস্থলের আশপাশে এবং শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোতায়েন করা হয়েছে।

বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, সমাবেশে যোগ দিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিভিন্ন প্রবেশপথ ও পুলিশ চেকপোস্ট ও সিএন্ডবি ঘাটে তাদের নেতাকর্মীদের বাধা দিয়েছে।

তবে সকাল থেকেই বিএনপি নেতাকর্মীদের সব বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে সরকারবিরোধী স্লোগান দিয়ে ছোট ছোট মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে আসতে দেখা গেছে।

শহর থেকে কমরপুর আবদুল আজিজ ইনস্টিটিউশনের দিকে যানবাহন ও অটোরিকশা যেতে না দেয়ায় সমাবেশে অংশ নিতে বিএনপির অনেক নেতাকর্মী ছয় কিলোমিটার পায়ে হেঁটে যেতে বাধ্য হন।

আয়োজকরা জানান, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির নিন্দা, ভোলা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ ও যশোরে পূর্বে পুলিশের হাতে দলের পাঁচ নেতাকর্মীর মৃত্যু এবং বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি নিশ্চিত করতে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে।

বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে যে আগামী সাধারণ নির্বাচন কোনও রাজনৈতিক সরকারের অধীনে নয়, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই হতে হবে। সংবিধানে সেই সুযোগ নাই বলে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ তা তীব্রভাবে প্রত্যাখ্যান করছে।

বরিশাল, রংপুর ও খুলনায় বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশের আগেও একই ধরনের ধর্মঘট করা হয়েছিল। তবে দলের হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থকরা বাধা অতিক্রম করে সমাবেশে অংশ নেন।

আগামী ১০ ডিসেম্বর ঢাকা মহানগরীতে গণসমাবেশের মধ্য দিয়ে বিভাগীয় সমাবেশ শেষ করবে বিএনপি।


সর্বশেষ